স্টাফ রিপোর্টার: যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। রোববার দুপুরে এই অভিযানের অংশ হিসেবে হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী পরিতোষ পালকে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালের দালাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।
পরিতোষ পাল ১৬ বছর ধরে করোনারি কেয়ার ইউনিটের অক্সিজেন প্লান্ট দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। এই চাকরির আড়ালে তিনি রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছিলেন। হাসপাতালের আউটসোর্সিং ও স্বেচ্ছাসেবী মিলিয়ে মোট ১১০ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বাইরেও প্রায় ১০০ জন সক্রিয় দালালের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন তাকে সরানো সম্ভব হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
রোগী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী ও সাধারণ সদস্যরা জনস্বার্থে গত তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতের কাছে হস্তান্তর করেন। ডা. শাফায়াত বলেন, “দালালদের তৎপরতা কমছে না, তাই রোগী কল্যাণ সমিতি আমাদের সহযোগিতা করছেন।”
রোগী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু জানান, জনস্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহায়তার জন্যই তারা এই অভিযান হাতে নিয়েছেন।